ডিসেম্বরে কংগ্রেস করবে ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রকাশ : 28 Jun 2024
ডিসেম্বরে কংগ্রেস করবে ওয়ার্কার্স পার্টি

×বহুপাক্ষিক ছাড়া একপেশে যোগাযোগ (করিডোর) ভারসাম্যহীন হবে

×দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ (কানেক্টিভিটি) গড়তে হবে


ডেস্ক রিপাের্ট:  বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ২৮ ও ২৯ জুনের দু’দিনের সভা আগামী ৫ অক্টোবর ঢাকায় বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি ঘোষিত ৫ দফা দাবির ভিত্তিতে সমাবেশ ও মিছিল, জুলাই—আগস্ট ঘোষিত সাংগঠনিক মাসে জেলায় জেলায় পার্টি সদস্যদের সাধারণ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল এবং আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠানের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। সভায় পার্টি কংগ্রেসের রাজনৈতিক সাংগঠনিক রিপোর্ট প্রণয়ণের জন্য চার সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। 

এর আগে পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা উত্থাপিত সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক রিপোর্টে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, মূল্যস্ফিতি নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতা, দুনীতি, অর্থপাচার, ব্যাংক খাতে লুট ও নৈরাজ্য ও সর্বোপরি  খেলাপি ঋণের বিশাল পাহাড় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রিপোর্টে দুর্নীতি—দুবৃর্ত্তায়ন, লুটপাট, অর্থনৈতিক নৈরাজ্য, সাম্প্রদায়িকতা—মৌলবাদী আক্রমণ ও বাংলাদেশকে ঘিরে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে মার্কিণ সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা সম্পর্কে পার্টির নিজস্ব ভিত্তিতে আন্দোলন—সংগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যয়ব্যক্ত করা হয়।

সভায় ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সম্পর্কে অনুল্লেখ তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভারতের সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি ছাড়া তিস্তার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে সহযোগিত কার্য্যত: গাছের গোড়া কেটে ওপরে পানি ঢালার শামিল। সভায় উল্লেখ করা হয় এই পদক্ষেপ তিস্তা সমস্যা সমাধানে আবশ্যক কালক্ষেপন ঘটাবে এবং তিস্তার মানুষকে এই সময়কালে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সভায় হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলা হয়, তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ যেন ভূূরাজনীতির দ্বৈরথের শিকার না হয়। সভায় তাই অবিলম্বে তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন করে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান হয়। সভায় আন্তর্জাতিক গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়নে আব্যশিক ভাবে চুক্তিতে উল্লেখিত সংকোশ থেকে খাল কেটে গঙ্গার পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়।

ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে ভারতকে বাংলাদেশের মধ্যদিয়ে রেল করিডোর প্রদান সম্পর্কে বলা হয় ওয়ার্কার্স পার্টি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের (কানেক্টিভিটি) ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে সেটা নিশ্চয়ই একপাক্ষিক নয়। এটাকে বহুপাক্ষিক করা ছাড়া এটা একপেশে ও ভারসাম্যহীন হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না।

কেন্দ্রীয় কমিটির দু’দিনের সভায় সভাপতিত্ব করে পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি। 

সভার শুরুতে শোক প্রস্তাবে পার্টির সাবেক নেতা কমরেড হায়দার আকবর রনো, সাবেক সাংসদ শহীদুল্লাহ  শহিদ, নাটোর জেলা সদস্য কমরেড মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলা সদস্য নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা দোহার উপজেলা সদস্য মুনছের মিয়া,  রাজবাড়ী জেলা সভ্য কমরেড বাবু বিশ^াস, টাঙ্গাইল জেলা মির্জাপুর উপজেলা কমরেড সুভাষ সূত্রধর, ভারতের সাবেক কুটনিতিক মুচকন্দ দুবে, জাতীয় পতাকা নকসাকার শিবনারায়ণ দাস, কবি অসিম সাহা, নব্বইয়ের ছাত্রনেতা শফি আহমেদ, কলামিষ্ট ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহসভাপতি মনোয়ারুল হক প্রয়াতদের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রয়াতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


সম্পর্কিত খবর

;