নিহতদের স্মরণে ঢাকায় শোক সমাবেশ-মিছিল অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 26 Jul 2024
নিহতদের স্মরণে ঢাকায় শোক সমাবেশ-মিছিল অনুষ্ঠিত


‘ছাত্র-জনতা হত্যার দায় নিয়ে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে অবিলম্বে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ করতে হবে’


ডেস্ক রিপোর্ট : কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে হামলা এবং পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ২০৬ জন ছাত্রজনতার হত্যাযজ্ঞের বিচার এবং এই হত্যাযজ্ঞের দায় নিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা ও বাংলাদেশ জাসদ এর উদ্যোগে শুক্রবার বিকাল ৩ টায় পুরানা পল্টনে কালো পতাকা হাতে নিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করে সমাবেশ ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শোক মিছিলের পূর্বে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট এর সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চার বেলাল চৌধুরী ও বাংলাদেশ জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান।


সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির রুবেল সিকদার, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, গণমুক্তি ইউনিয়নের সভাপতি নাসির উদ্দিন নাসু, বাসদ (মাহবুব) এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এক গভীর অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে এত অল্প সময়ে আর কখনো এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেনি। নিজেদের দলীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী ও পুলিশ-বিজিবি-র‍্যাব ইত্যাদি সরকারি বাহিনী ব্যবহার করে সরকার জনগণের উপর চড়াও হয়েছে। পত্রিকার তথ্য বলছে, আজ পর্যন্ত ২০৬ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। সর্বশেষ কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী নামিয়ে দমন-পীড়ন চালাতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করেনি। এখন চলছে নির্বিচার গণগ্রেপ্তার। সরকার যদি ভাবে এভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে তারা আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারবে তবে তারা ভুল পথে হাঁটছে। এই আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা শুরু করলেও বাস্তবে এ আন্দোলন দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা সরকারের দুর্নীতি-লুটপাট, স্বৈরাচারী নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনতার পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। আন্দোলনের যে আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা দমন-পীড়ন করে বন্ধ করা যাবে না।


নেতৃবৃন্দ শোক সমাবেশ থেকে দাবী উত্থাপন করে বলেন, অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনী-বিজিবি ইত্যাদিকে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে, ছাত্র-জনতার উপর সংঘটিত বর্বর হামলা ও হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে,  স্বাধীন কমিশন গঠন করে অংশীজনের মতামত নিয়ে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্ভূত সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে, অবিলম্বে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলসমূহ খুলে দিতে হবে, ক্যাম্পাসগুলো থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন করে আন্দোলনকারীসহ সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, গণগ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনভাবেই এই হত্যাযজ্ঞ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির দায় এড়াতে পারে না। এই হত্যাকাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের দায় নিয়ে অবিলম্বে শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করেই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত খবর

;