সুনামগঞ্জঃ
সাইফুল আলম ছদরুল, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জে আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরো চাষাবাদের প্রস্তুতি চলছে। বীজতলা তৈরিও শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এক সপ্তাহ পরই বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর হাইব্রিড, উপশী ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় ৬০ হেক্টর।
সরেজমিনে জেলার একাধিক উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন ধান কাটা—মাড়াই চলছে এবং একইসাথে এলাকার কৃষকরা বোরো চাষাবাদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কৃষকরা বোরো চাষের প্রথম পর্যায়ে বর্তমানে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বীজতলা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। শীতের প্রকোপ বাড়লেও সকালের ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে দল বেঁধে বীজতলা পরিচর্যাসহ বোরো ক্ষেত তৈরিতে কাজ করছেন কৃষকরা।
শাল্লা উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের ছুমায়ুন বলেন, বিশ কেয়ার জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করব। তিন কেয়ার জমিতে বীজতলা তৈরি করেছি। জমিতে চারা রোপণের পর বীজতলার অতিরিক্ত চারা বিক্রি করব। বীজতলার চারা রোপণের উপযুক্ত হয়ে গেছে, এক সপ্তাহ পর রোপণ শুরু করব।
ধর্মপাশা উপজেলার দিগজান গ্রামের কৃষক আব্দুন নুর চৌধুরী বলেন, এ বছর আমরা ২০ কেয়ার জমিতে বোরো চাষাবাদ করব। তিন জাতের ৩০ প্যাকেট বীজ ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। বীজের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক—২, ১০২ এবং ৮৮। সপ্তাহ—দশদিনের মধ্যে চারা রোপণ শুরু করব।
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সুলমান উদ্দিন বলেন, এ বছর ২৪ কেয়ার জমিতে বোরো আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এই লক্ষে ঝলক জাতের বীজ, ৮৮ এবং ১১২ জাতের ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরি করছি। এই পর্যন্ত অর্ধেকের মতো বীজতলা তৈরি শেষ হয়েছে এবং বাকি অর্ধেক এই সপ্তাহে তৈরি করব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলায় কোনো সমস্যা হয় নি।
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, উপজেলায় এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫০৫ হেক্টর। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ হেক্টর। এরমধ্যে হাওরে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা হাওরে ২৭৭ হেক্টর এবং নন— হাওরে ৭৭ হেক্টর মিলিয়ে মোট ৩৫৪ হেক্টর। উপশী জাত হাওরে ৫৩২, নন— হাওরে ২৫৩ মিলিয়ে মোট ৭৮৫ হেক্টর। এছাড়াও স্থানীয় জাত ১ হেক্টর মিলিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ১৩৭ হেক্টর বীজতলা হবে। এরমধ্যে অগ্রগতি ৬৯০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির কাজ চলমান আছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, এ বছর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর। এই লক্ষে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ হেক্টর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর হাইব্রীড, উপশী ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৬০ হেক্টর। কৃষকেরা পুরোদমে বীজতলা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। বীজতলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলায় কোনো সমস্যা হয় নি। আগামী সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ শুরু হবে।
অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ঈদকে সামনে রেখে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার অনেক কৃষক আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনলেও প্রত্যাশিত দাম না প ...
আহাছানুলমতিন নান্নু বোচাগঞ্জ, (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দ বোচাগঞ্জ উপজেলা জুড়ে এখন আমগাছে মুকুলের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ রঙের মুকুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস; মৌম ...
অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: বসন্তের কোমল আগমনী বার্তায় ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ আজ আম্রকুঞ্জের মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। মৃদুমন্দ দক্ষিণা বাতাস, ঝলমলে রোদ আর সহনীয় তাপমাত্রার অনুকূলে গাছে গাছে ফুটে ওঠা ...
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : তুলা দেশের অন্যতম চাহিদা নির্ভর অর্থকরী ফসল। আর এ অর্থকরী ফসল তুলা সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। এ অঞ্চলের তুলার আঁশের গুণগত মান ভাল হওয়ায় এখানকার তুলা ...
সব মন্তব্য
No Comments