বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণের অজুহাতে ছাত্র সমাজকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা: ছাত্র ফ্রন্ট

প্রকাশ : 19 Sep 2024
বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণের অজুহাতে ছাত্র সমাজকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা: ছাত্র ফ্রন্ট

ডেস্ক রিপোর্ট: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস তৈরির লক্ষ্যে ঘোষিত অভিযানের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ  বলেন, গণঅভ্যুত্থানকালীন ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের জন্য যখন সকল মত, আলোচনা-পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিক সেই মুহুর্তেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এরূপ অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়কে জনপরিসর থেকে বিচ্ছিন্নকরণের আভাসই দিয়ে থাকে। প্রশাসনের এরূপ অবস্থান স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার সাথেই সাংঘর্ষিক। ‘বহিরাগত’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে জনগণ ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই পুরনো কৌশলটি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলেও প্রশাসন ও ছাত্রলীগ বহুবার ব্যবহার করেছে। ফলে এটা স্পষ্টতই এই প্রশ্নটি আসবে, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের প্রশাসনের সাথে অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নতুন প্রশাসনের প্রভেদ কী রইল! এবং প্রশাসন বহিরাগত শব্দ দ্বারা কাদেরকে উল্লেখ করেছেন সেটি স্পষ্ট নয়। 


বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন করেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে যখন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তারাই কি বহিরাগত? একজন শ্রমজীবী মানুষ যিনি আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনিও কি বহিরাগত? বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডবিহীন প্রত্যেক ব্যক্তি তথা সমগ্র দেশের জনগণই কি বহিরাগত? যদি তাই হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই আন্দোলনের স্পিরিট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণার সাথেই সাংঘর্ষিক, কেননা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ বিশ্বের তাবৎ জ্ঞানকে একত্র করা, জ্ঞান আদান-প্রদান ও নতুন জ্ঞান উৎপাদন করা যার সাথে জড়িত থাকে সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্র। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান কেন্দ্র নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রও বটে। অতীতের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতো। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, এমনকি সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও সকল বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সকল স্বৈরাচারী সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সমাজকে জনবিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছে, কালাকানুনের নিগড়ে বেঁধে রাখতে চেয়েছে। এই পথ পরিহার করুন। ক্যাম্পাসকে বন্দি করবেন না, ছাত্রদের বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেবেন না।


নেতৃবৃন্দ বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসতে হবে, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত প্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির কাজে, যখন নিশ্চিত করতে হবে মুক্তভাবে চিন্তা চর্চার পরিবেশকে, তখন এহেন পদক্ষেপ অবশ্যই নিন্দিত ও ইতিহাস বিরুদ্ধ। 


নেতৃবৃন্দ  আরও বলেন, অতিসত্বর প্রশাসনের এইরূপ ঘোষণাকে প্রত্যাহার করতে হবে,  ক্যাম্পাসে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ও তার জন্য একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, হল সংকটসহ প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে জনপরিসর থেকে বিচ্ছিন্নকারী যে কোনো শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।


সম্পর্কিত খবর

;