স্থানীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সংস্কার ও নির্বাচনকে আরও দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলবেন না: বাম জোট

প্রকাশ : 10 Jan 2025
স্থানীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সংস্কার ও নির্বাচনকে আরও দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলবেন না: বাম জোট


ডেস্ক রিপোর্ট: বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের এক সভা  আজ (১০ জানুয়ারি)  ‘বাসদ (মার্কসবাদী)’ কার্যালয়ে  অনুষ্ঠিত হয়। বামজোটের সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ,  বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের  সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার ও নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং বাসদ (মার্কসবাদী)'র মানস নন্দী।  

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “সারাদেশে মাজার-উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চলছেই। গত ৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ সদরের থানাঘাট এলাকায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)–এর মাজারের বাৎসরিক ওরসের সময় কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কতগুলো কাগুজে হুশিয়ারি ছাড়া আর কোন পদক্ষেপই আমরা দেখছি না। এদেশে বিভিন্ন মত-পথ-ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজেদের মতো করে বিশ্বাস ধারণ ও সংস্কৃতি পালনের অধিকার রাখে। এতে কেউ বাধা দিতে পারে না। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে মাজারে হামলা করাটা একটা সহজ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের এক্ষেত্রে কথা না বাড়িয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া সবগুলো হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচার করতে হবে।”  

নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট প্রকাশ করে কী প্রক্রিয়ায় সংস্কার ও নির্বাচন হবে, সেজন্য কতদিন সময় লাগবে- এ সম্পর্কিত কোন স্পষ্ট রোডম্যাপ সরকার এখনও প্রকাশ করছে না। গোটা ব্যাপারটাই যেখানে এখনও অস্পষ্ট, সেই সময়ে, গত পরশুদিন প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলা বিয়ারের সঙ্গে আলোচনার সময় স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বলেছেন। আমরা মনে করি, সরকার সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ আগে ঘোষণা করুক। এর সাথে স্থানীয় নির্বাচন যুক্ত করলে সংস্কার প্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত হবে।” 

নেতৃবৃন্দ সরকারের এই সময়ে গৃহিত বেশকিছু পদক্ষেপ মেহনতি মানুষের পক্ষে যাচ্ছে না বলে মনে  করেন। তারা বলেন, “দেশের নিম্নবিত্ত জনগণের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ আমলে তীব্র শোষণের স্বীকার হয়ে এই জনগণ মাঠে নেমেছিল, প্রাণ দিয়েছিল। অথচ সরকারের পদক্ষেপগুলো এর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এরইমধ্যে আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে পরোক্ষ কর বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি টিসিবির সুবিধা পাওয়া এক কোটি জনগণের মধ্যে ৪৩ লক্ষের কার্ড বাতিল করা হয়েছে আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়মের কথা তুলে। অনিয়মের এই সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আর সেটা হলেও যার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে তার কার্ড বাতিল করে প্রকৃত লোককে কার্ড প্রদান করা উচিত। কিন্তু অনিয়মের অজুহাত তুলে ৪৩ লক্ষ মানুষের কার্ড বাতিল করে রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানেরর দায়িত্ব সংকোচন করা চলে না। আমরা পূর্বেই বলেছি, দেশে যে পরিমাণ নিম্নবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষ আছেন, সেখানে এক কোটি কার্ডও অপ্রতুল। 

এখন আমনের ভরা মৌসুম, অথচ চালের দাম বাড়ছে। সরকার সিন্ডিকেটকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট থাকা উচিত। সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। 

সবচেয়ে বড় কথা সরকার পরিচালনা করা উচিত এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গরীব-মেহনতি মানুষের দিকে লক্ষ্য রেখে। আমরা অবিলম্বে চালের দাম কমানো এবং টিসিবির কার্ডের সংখ্যা ও পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করছি।“ 

কর্মসূচী: 

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের পুনর্বাসন, জনজীবনের সংকট নিরসন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে ১৫ জানুয়ারি '২৫  দেশব্যাপী মিছিল ও সমাবেশ। 


সম্পর্কিত খবর

;