বিশ্ববিদ্যালয় ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করুন: ছাত্র ফ্রন্ট

প্রকাশ : 25 Dec 2024
বিশ্ববিদ্যালয় ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করুন: ছাত্র ফ্রন্ট

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহীত যানবাহন প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত মর্মে বক্তব্য প্রদান করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সুহাইল আহমেদ শুভ বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহীত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জনসাধারণের দীর্ঘ ঐতিহ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় স্বার্থে দানা বেঁধে ওঠা গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব মেলবন্ধনের ইতিহাস। আজকের সময়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাহীনতার জন্য সাধারণ মানুষের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবাধ প্রবেশাধিকারকে দায়ী করাটা অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষ ও যানবাহনের যে ভিড় পরিলক্ষিত হয় তার জন্য দায়ী রাষ্ট্রের সার্বিক পরিকল্পনা ও আয়োজনের ঘাটতি-ত্রুটি। ক্যাম্পাস এলাকায় ভাড়ি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, যানবাহনের গতি মনিটরিং করা ছিল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই সমস্ত দাবি ছাপিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার এই চটকদারি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মিলনাত্মক সম্পর্ককে বৈরীতায় পর্যবসিত করে জনসাধারণের থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচ্ছিন্ন করবার শাসকশ্রেনির দীর্ঘদিনের প্রয়াসের অংশ ব্যতীত ভিন্ন কিছু নয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জনগণের সম্পর্ক যতো বেশি নিবিড় হয়, ততো বেশি তরান্বিত হয় সমাজ প্রগতি। জ্ঞান সৃষ্টি ও শাসক শ্রেণির নীতি কে প্রশ্ন করার যে সামাজিক দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর অর্পিত থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি দীর্ঘ সময়। দীর্ঘ আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনামলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস জনসাধারণের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে একাত্ম হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজকে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জনগণের সম্পর্ক আরও বেশি নিবিড়, পারস্পরিক দায় সম্পন্ন হবে এটি ছিল কাম্য। অথচ ঠিক উল্টো চিত্রই আমরা দেখতে পাচ্ছি। নিরাপত্তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও জনগণকে পাল্টাপাল্টি জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়ার এই প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সামাজিক দায়হীন অথর্ব একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিইয়ে রাখার পক্ষেই সহায়ক হবে। ফলে অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাড়ি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহবান জানাই আমরা।

সম্পর্কিত খবর

;