খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর সেনা হামলা ও আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ৪ সংগঠন

প্রকাশ : 12 Aug 2024
খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর সেনা হামলা ও আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ৪ সংগঠন

ডেস্ক রিপোর্ট:  খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ বাউন্ডারি দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর সেনা হামলা, লাঠিচার্জ ও রঙের কৌটা লাথি মেরে ফেলে দেয়া এবং প্রণয় চাকমা নামে একজন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ।

সোমবার (১২ আগস্ট ২০২৪) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশেনর সভাপতি নীতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।


খাগড়াছড়িতে আজকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা চার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে সে সন্দেহও প্রকাশ করেন।


বিবৃতিতে তারা বলেন, রক্তাক্ত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার এক অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন হলেও দেশের কোন কোন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনও তার বশংবদরা প্রেতাত্মার মতো ভর করে রয়েছে এবং নানাভাবে মাথাচারা দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। খাগড়াছড়ি কলেজ বাউন্ডারি দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কনে নিয়োজিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা হিংস্র নখদন্ত বের করেছে, প্রকারান্তরে নিজেদের চেহারা উন্মোচন করে ফেলেছে। নেতৃবৃন্দ এদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবন্দ আরো বলেন, সারাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ম হয়ে এবং বলতে গেলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে বেরিয়ে এসেছে। দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে তারা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ-বঞ্চনা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে বাধা প্রদান, গ্রাফিতি মুছে দেয়া-রঙের কৌটা ফেলে দেয়া, হামলা, লাঠিচার্জ ও এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করতে পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রের অংশ, যা নিরাপত্তা বাহিনীর উর্দিপরা হাসিনার একান্ত বশংবদরা পাহাড়ে বাস্তবায়ন করে চলেছে। দেশের প্রতিবাদী ছাত্রসমাজ তথা মু্ক্তিকামী জনতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বশংবদদের এ ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব-নারীসমাজও তা কখনই মেনে নেবে না।


চার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে পাহাড় থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

;