মাঠে অনুপস্থিত নেতাদের তালিকা করছে আ’লীগ

প্রকাশ : 26 Jul 2024
মাঠে অনুপস্থিত নেতাদের তালিকা করছে আ’লীগ



স্টাফ রিপোটার: কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকানো কিংবা প্রতিরোধে মাঠে না থাকাকে সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখছে টানা চার মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ। ছাত্রদের আন্দোলনে কৌশলে ঢুকে সহিংসকারিদের ঠেকাতে না পারায় ক্ষোব্দ দলের হাইকমাণ্ড। তাই শিগগিরই দল ও সহযোগি সংগঠনের কোথায় কি সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে এবং কেন তারা মাঠে নামেনি তা চিহ্নিত করার নিদের্শনা দিয়েছেন দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে দলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও যারা এ সময়ে মাঠে ছিলেন না বরং আত্মগোপনে চলে গেছেন তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাধারন সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, রাজধানীর সকল এমপিদের ডেকে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ওবায়দুল কাদের এমপির দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে মাঠে অনুপস্থিত থাকা এবং আত্মগোপনে চলে গেছেন এমন নেতাদের তালিকা তৈরির নির্দেশনার বার্তা পৌঁছে দেন। একইসঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ছয়টি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলেন। সেগুলো হচ্ছে-চলমান কারফিউ আইন ভঙ্গ না করা এবং নেতাকর্মীদের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকা ও অলিগলিতে অবস্থান নেওয়া,বহিরাগত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে থানায় তালিকা দেওয়া, আহত ও নিহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করা,গুজব প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকার মসজিদ ভিত্তিক কাজ করা, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখা এবং নিজ নিজ পাড়া-মহল্লায় সমন্বয় সভা করা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদের কোটা আন্দোলন চলতি মাসের এক জুলাই থেকে শুরু হলেও গত ১৮ জুলাই রাজধানীর বিভিন্নস্থানে পুলিশ-র‌্যাব এবং কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারিদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়। এতে সাংবাদিক-পুলিশসহ অনেকে নিহত ও আহত হয়েছে। পরে অবস্থার বেগতিক হলে মাঠে নামেন সেনাবাহিনী। জারি করা হয় কারফিউ। যা বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শীতিল করা হচ্ছে। পরিস্থিস্তি ও আসতে আসতে সরকারের নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। তবে এবারের আন্দোলনে ছড়িয়ে পড়া সহিংস ঘটনায় দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব  ফুটে উঠেছে। বৈঠকে একই সঙ্গে সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে দলের সিনিয়র নেতা, দলীয় সংসদ সদস্য, দলীয় কাউন্সিলর ও সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে দলের সাধারন সম্পাদক তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনাগুলো নেতাকর্মীদের জানান। তিনি বলেন, নেত্রী  শেখ হাসিনা) সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন, তিনি আমাদেরও চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার কথা জানান। এরমধ্যে রয়েছে-ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী,শনিরআখড়া, রায়েরবাগ-সাইনবোর্ড ও সানারপাড়, মানিকনগর-খিলগাও, রামপুরা-বাড্ডা,নতুন বাজার,কুড়িল বিশ^রোড, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও গাবতলী। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের উল্লেখিত এসব স্থানে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কারফিউ চলার কারণে মূল সড়কে একত্রে সমাবেশ না করে প্রতিটি অলিগলির মোড়ে মোড়ে অবস্থান থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। এছাড়া সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়েও সমালোচনা করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জেলা কমিটি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপমাহাদেশের সর্ববৃহৎ এই ছাত্র সংগঠনকে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলাতা কাটিয়ে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করারশর্তে বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনে প্রথম থেকেই তৃণমূল আওয়ামী লীগসহ অনেকে ছাত্রদের সমর্থন দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রীমহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। এবার কাউকেই আর ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, এবারের আন্দোলনে যারা সহিংসতা ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে তাদেরকেও সরকার চিহ্নিত করার মধ্যদিয়ে আইনের আওতায় আনবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ছাত্রদের আন্দোলনে প্রবেশ করে যারা পরিকল্পিভাবে দেশজুড়ে নাশকতা চালিয়েছে এবং মানুষ হত্যা করেছে তারা কেউ রেহাই পাবেন না। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে।

এদিকে আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত-আহত আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে গত কয়েক দিন ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়  এবং ধানমণ্ডিস্থ দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খুব একটা ভিড় দেখা যায়নি। তবে গত মঙ্গলবার পুরোনো দৃশ্যে ফিরেছে কার্যালয় দু’টি। সরজমিনে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার থেকে বুধবারও সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয় দু’টিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ অন্যান্য ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভীড় করছেন। কেউ কেউ সকাল ১০টা থেকে কারফিউ শীতল হওয়ায় আশপাশের কয়েকটি চায়ের দোকানেও আড্ডা দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিনের বেশ কিছু এলাকায় আন্দোলনের নামে নাশকাবিরোধী স্লোগান দিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট ১৯জুলাই রাতে লন্ডন পালিয়ে যান, তার অনুসারি অনেক নেতা কর্মী মাঠে নিস্ক্রিয় ছিলেন, ঢাকা যাত্রাবাড়ি-আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়া ১৮প্রার্থীর মধ্যে কাউকে মাঠে পাওয়া যায়নি, বর্তমান সরকার পতন হবে এই ভেবে অনেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে বলে সূত্র জানায়, অপরদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে জুরাইন আলম মার্কেট এর সামনে থেকে বদরুল আলম লাবু এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ  সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।

সম্পর্কিত খবর

;