নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন মেসে থাকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাস সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।ফলে নিয়মিত ক্লাস করতে যাওয়া-আসায় ভোগান্তি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।ভোগান্তি কমাতে বাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছরান্তে বাসে যাতায়াতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। অথচ ইদানীং বাসে জায়গা পাওয়া যায় না উল্টো ভাড়া দিয়ে ক্যাম্পাসে যেতে হচ্ছে। বিশেষত ৯ টা এবং ৯.৩০ এর বাসে শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি থাকায় বাসের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। মোট শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই আবাসিক সমস্যার কারণে মাইজদি কেন্দ্রীক থাকায় তাদের ক্যাম্পাসে যেতে ধরতে হয় ৯ টা বা সাড়ে ৯ টার বাস। কারণ বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্টের ক্লাস শুরু হয় ৯ টার পর, তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রই ভোগান্তি হয় ৯ টা বা সাড়ে ৯.৩০ টার সময়। এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে স্বল্প দূরত্বে যেসব শিক্ষার্থী বসবাস করে তাদেরকে প্রধানত গণপরিবহন এবং অটোসার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারেও শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদ ও ২টি ইন্সটিটিউটের অধীনে ৩৩টি বিভাগে অধ্যয়নরত আছে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ২টি হল এবং মেয়েদের ৩টি হলে মোট আবাসিক শিক্ষার্থী আছে প্রায় আড়াই হাজার।অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ ভাগ বা সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন মেসে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল হতে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত বাস মোট ২১ টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ১১ টি বাসের পাশাপাশি ১০ টি বাসের বিআরটিসি বাসও রয়েছে যেগুলো ভাড়ায় চালিত।পরিবহন পুলে থাকা গাড়িগুলোর ফিটনেস নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ।
বাসে ভোগান্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,"হলে সিট না পাওয়ায় শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন জায়গায় মেস ভাড়া করে থাকতে হয়। মেস থেকে ক্লাস করতে যাওয়ার পথে পরিবহনে অনেক সময় জায়গা থাকে না।শহর থেকে সকাল ৮টা,৯ টা এবং ৯.৩০ টায় নিয়মিত বাস যায় ক্যাম্পাসে।সুধারাম থানার সামনে থেকে বাস ছাড়লেও বড় মসজিদ মোড়, পৌরবাজার,বিশ্বনাথ, রশিদ কলোনি,হোয়াইট হল,দত্ত বাড়ীর মোড়,দত্তের হাট ও সোনাপুর থেকেও শিক্ষার্থীরা বাসে ওঠে। বর্তমানে বাসের তীব্র সংকটের কারণে পৌর বাজার বা বিশ্বনাথ থেকেই বাসে দাড়ানোর জায়গাই পাওয়া যায় না। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকেই বাসে উঠতে না পেরে ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪র্থ বর্ষের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন,"আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন সমস্যার কারণে মাইজদিতে মেসে থাকতে হয়। আমাদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবহন আছে তা শিক্ষার্থীর অনুপাত হিসেবে খুবই অপ্রতুল । আমাদের বেশিরভাগ ছাত্র- ছাত্রীদেরই আসা যাওয়া করতে হয় কোনমতে বাসের হাতল ধরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এমনকি দরজার বাইরে ঝুলে ঝুলে যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টকর। আরও দুঃখের বিষয় হল আমরা যারা রশিদ কলোনি, গারেজ, হোয়াইট হল, কিংবা দত্তের হাট থাকি আমরা বাসে সিট পাওয়া কিংবা ঝুলে ঝুলে যাওয়া তো দূরের কথা বাসে উঠতেও পারি না। সবশেষ গত ২১-০৫-২৪ রোজ মঙ্গলবার সকাল ৯.৩০- এ অসংখ্য শিক্ষার্থী বাস উঠতে পারিনি।রশিদ কলোলির পর থেকে বাস কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পরে সবাইকে নিজ খরচে যেতে হয়েছিল।যেটা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা।ইদানীং পরিবহনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।আমরা এই সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানচ্ছি।"
রশিদ কলোনির মেসে থাকা ২য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রত্যেকদিন সকাল সাড়ে নয়টার বাসে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বাস সিট পাওয়া যায় না এবং এমনও দিন আছে যেদিন বাসে উঠা যায় না। আমি প্রত্যেকদিন রশিদ কলোনি থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার জন্য রশিদ কলোনি দাঁড়িয়ে থাকে । তবে কিছু কিছু দিন যদি কপাল ভালো থাকে এবং আল্লাহ তাআলার অশেষ কৃপায় বাসে হচ্ছে গিয়ে দাঁড়ানোর মত জায়গা পাওয়া যায় কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে বাসের ভিতরে কোন জায়গায় নেই। যেখানে আমাদের বাসের দরকার ৮ থেকে ৯ টি সেখানে কোন কোন দিন ৯:৩০ টার দিকে চারটার বাস দেওয়া হয় যার কারণে বাসে বসার তো দূরের কথা দাঁড়ানোর জায়গাটাও পাওয়া যায় না। আমার মনে হয় বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং যেহেতু উনারা প্রত্যেক সেমিস্টারে এই বাসের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিচ্ছেন সেহেতু অবশ্যই উনাদেরকে এই দিকে বেশ ভালো খেয়াল রাখতে হবে কারণ আমরা যদি ঠিকভাবে যদি ক্যাম্পাসে নাই যেতে পারি তাহলে কি ক্লাস করব। দেখা যায় যে বাসে সিট না পাইলে দাঁড়িয়ে যাওয়া লাগে এবং এতে অনেক ধকল হয়ে থাকে আমাদের। আর এসবের জন্য ক্লাসে মনোযোগ দেয়া যায় না তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।"
৩য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "বাসের সিডিউল বাড়ানো হোক। কারণ শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সর্বশেষ বাস ৯.৩০ এ হওয়ায় যাদের ক্লাস ১১ টা বা ১২ টায় তাদেরও ৯.৩০ এর বাস ধরতে হয়।যদি পরবর্তীতে ১০.৩০ এ যদি বাস সিডিউল বৃদ্ধি করা যায় সেক্ষেত্রে ভোগান্তি কিছুটা কমবে। "
বাসে ভোগান্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি'র পরিবহন প্রশাসক ড. কাউসার বলেন,"বাসের বিষয়ে এ পর্যন্ত আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি, এখন জানতে পেরেছি। প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবো যাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন,"বাসের বিষয়ে এ পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। এখন জানতে পেরেছি পরিবহন প্রশাসকের সাথে কথা বলে বাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিবো। পরিবহন পুলে বাস বাড়ানোর বা নতুন বাস ক্রয়ের প্রশ্নে বলেন এখন বাস ক্রয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তবে আমাদের বাজেট আছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে বাস কিনার সিদ্ধান্ত নিবো।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাস্টার্স (প্রফেশনাল) কোর্সে পাঠদানকারী কলেজসমূহে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিএড, বিপিএড, বিএমএড, বিএসএড, এমএড, এমএসএড, এমপিএড, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এলএ ...
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অধ্যয়নরত রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'রাজশাহী বিভাগ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ'-এর ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারি অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা এক কর্মচারির ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইস ...
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অসাবধানতায় কয়েক হাজার পুরুষ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ (জেন্ডার) পরিবর্তিত হয়ে ‘ফিমেল’ বা নারী চলে এসেছে। অন্তত ৩৮ হাজার পুরুষ শিক ...
সব মন্তব্য
No Comments