বাসদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 14 Nov 2023
বাসদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোটার: মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে গার্মেন্টস শ্রমিক রাসেল, আঞ্জুয়ারা, জালালুদ্দিন ও ইমরান হত্যার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান, শ্রমিকদের উপর হামলা-মামলা-হয়রানী বন্ধ, শ্রম আইনের শ্রমিক বিরোধী ১৩(১) ধারার ব্যবহার বন্ধ এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত অগ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিপূর্ণ মজুরি পুণঃনির্ধারণের দাবিতে আজ ১৪ নভেম্বর ২০২৩ বিকাল সাড়ে তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজজামান রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা আহসান হাবিব বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘শ্রমিক বান্ধব সরকার’ মজুরি ঘোষণার প্রশ্নে মালিকদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। মজুরি ঘোষণায় তালবাহনা করে দেরি করা, অন্যায়ভাবে ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করে মালিকেরা শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে উসকানি দিয়েছে। শ্রমিকরা রাস্তায় নামায় সরকার তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে শ্রমিক নয় মালিকেরই পক্ষ নিয়েছে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা করা হয়, যেটি শ্রমিকদের প্রত্যাশিত নয়। বাজার দর, উচ্চ দ্রব্যমূল্য, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় শ্রমিকরা ২৩ হাজার টাকা মজুরি দাবি করেছিল। এই অযৌক্তিক সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা শ্রমিকদের আরো ক্ষুব্ধ করেছে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। রাসেল, ইমরান, আঞ্জুয়ারা, জালালসহ ৪ জন শ্রমিককে হত্যা করেছে। যেসব ভাংচুরের কথা শ্রমিকরা করেছে বলে বলা হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয়। স্থানীয় সরকারি দলের গুন্ডা, জুট ব্যবসায়ী ও মালিকদের লাঠিয়াল বাহিনী এই সব ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে শ্রমিকদের উপর চালিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে মজুরি পুনঃনির্ধারণের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা- ঘটানো ও শ্রমিকদের কারখানা ভাঙচুরের গল্প তৈরি করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে গুলি করে শ্রমিক হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, নিহত চারজন শ্রমিকের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। গাজীপুরে ২২টি মামলায় ১৬ হাজার অজ্ঞাত শ্রমিককে আসামী করা কিংবা সাভার আশুলিয়ায় ৪০টি মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাত আসামী করা ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি থেকে সরানোর মালিকদের চক্রান্তের অংশ। মালিকরা নতুন মজুরি বাস্তবায়নের সময় প্রতিবাদী শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করবে এবং কম বেতনে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেবে। সেই সময় শ্রমিকদের প্রতিবাদের কন্ঠকে রুদ্ধ করতে এই মামলাগুলি ব্যবহার করা হবে। অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সেই শিক্ষা দেয়। নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে দমন-পিড়ন বন্ধ, শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্থদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের উপর দায়েরকৃত হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচাস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

সম্পর্কিত খবর

;