মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাসদ মার্কসবাদী

প্রকাশ : 16 Sep 2024
মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাসদ মার্কসবাদী

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)  কেন্দ্রীয় নির্বাহী  ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা সোমবার ( ১৫  সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে  দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী কর্তৃক মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রæত তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

কমরেড মাসুদ রানা বলেন, ফ্যাসিস্ট  শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে ভয়মুক্ত ও জবরদস্তিবিহীন একটি গণতান্ত্রিক  দেশের জন্য। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি,জনগণের মধ্য  থেকে গড়ে উঠা এ  ঐক্য ও গণতান্ত্রিক  চেতনার বিপরীতে  কিছু  গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে  নেওয়া ও  নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস  জোর করে অন্যদের উপর চাপিয়ে দিতে গিয়ে এ ঐক্যকে বিনষ্ট করছে। কিছু উগ্র ধর্মীয়  গোষ্ঠী মাজারকে শিরক আখ্যায়িত করে প্রকাশ্যে  ঘোষণা দিয়ে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর,  নোয়াখালী, সিলেট, শরীয়তপুরসহ আরও কয়েক  জেলায় মাজারে আক্রমণ,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বাংলাদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মাজারে বিশ্বাসী ও মাজার বিরোধী দুই ধারার মানুষই আছেন,মতপার্থক্য নিয়ে সুস্থ আলাপ-আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু বিশ্বাসে পার্থক্যের কারণে  কোন ভিন্ন মতের উপর আক্রমণ, ধর্মীয় স্থাপনা, মাজার গুড়িয়ে  দেওয়া  কোন সভ্য, গণতান্ত্রিক  দেশে চলতে পারে না। একের পর এক মাজারে আক্রমণ হলেও,উদ্বেগজনক হলো এখন পর্যন্ত তা বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর  কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা  নিষ্ক্রিয় থাকতে  দেখেছি। এছাড়া আমরা সারাদেশে 'মব জাস্টিস' করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে  মেরে  ফেলা, নৃশংসতা, নারীর উপর বর্বর আক্রমণ দেখছি। এ ধরণের  নৈরাজ্য,আক্রমণ বন্ধে সরকার স্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, এর ফলাফল হিসেবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে গড়ে উঠা জনগণের ঐক্য ধ্বংস হয়ে জনগণ ও সমাজের মধ্যে বিভক্তি ও ক্ষত বাড়াবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর জনগণের আস্থা কমবে,এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির ফিরে আসা বা ষড়যন্ত্রের  ক্ষেত্র  তৈরি হবে।




একইসাথে আমরা জনগণের কাছে আহবান জানাই, শত শত ছাত্র - শ্রমিক - জনতার মহান আত্মত্যাগকে নস্যাৎ করতে  দেবেন না। ফ্যাসিস্ট শাসক  শেখ হাসিনার পতন হলেও, ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামো ও ফ্যাসিবাদ সৃষ্ঠ মনন কাঠামো, শ্রেণী ভিত্তি নির্মূল হয়নি।এ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রয়োজনে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্ট গনতান্ত্রিক  চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে। মাজার,মন্দিরসহ  যেকোন উপাসনালয়ে হামলাসহ বিভেদসৃষ্টিকারী  যেকোন সাম্প্রদায়িক হামলা,ভিন্ন মত-বিশ্বাসের উপর হামলা,নারীদের অবমাননার  বিরুদ্ধে আজ তাই সমস্ত গণতন্ত্রকামী বিবেকবান মানুষকে  সোচ্চার হতে হবে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

;