সংবিধান উপেক্ষা করে কোটা বাতিল সংকটকে প্রলম্বিত করেছে

প্রকাশ : 15 Jul 2024
সংবিধান উপেক্ষা করে কোটা বাতিল সংকটকে প্রলম্বিত করেছে



ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের পরিকল্পিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় সংগঠনটি।

আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন ব্যক্ত করে আজ ১৫ জুলাই ২০২৪, সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে বামপন্থী এই যুব সংগঠনের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, কোটা পদ্ধতির সংস্কারের যে দাবি ২০১৩ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ও অপরাপর প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তোলা হয় তা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি যৌক্তিক পরিণতি পেতে পারতো। কিন্তু অসাংবিধানিকভাবে সরকার কোটাপদ্ধতি বাতিল করে এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে।


নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনে করি কোটা বাতিল করে নানাভাবে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা নৃ-তাত্ত্বিক ও লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষদের এবং ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক কারণে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করা জেলাসমূহের শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছিলো। নেতৃবৃন্দ এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে বিভিন্ন খাতে কোটার হার পুন:নির্ধারণ করার দাবি জানান। এছাড়াও সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।


এদিকে কোটা সংস্কাররে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের অসংলগ্ন বক্তব্যেরও নিন্দা জানায় যুব ইউনিয়ন। যুব নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি মহল সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে কেন্দ্র করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর পাঁয়তারা করে আসছিলো। সরকার প্রধানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য সেই তৎপরতাকেই আরও উৎসাহ জুগিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোটার সংস্কারের এই আন্দোলন সরকারের খামখেয়ালিমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। কিন্তু সরকার ছাত্রদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তরুণদের হতাশাকে পুঁজি করে তাদেরকে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও তার মৌল চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করানোর পাঁয়তারা করে আসছে। যুব ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ সরকার ও স্বাধিনতাবিরোধি শক্তির উস্কানিতে পা না দিয়ে সজাগ থাকতে আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দাবিদার সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চক্র উভয়েই শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর মিশন নিয়ে নেমেছে বলে বিবৃতিতে আশংকা প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুব নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বা অন্য কোনো মহলের উস্কানিতে ‘রাজাকার’ নামক ঘৃণিত একটি উপাধিকে মহিমান্বিত করার সাথে সামিল হলে ছাত্রদের বিচক্ষণতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং দেশবাসী আশাহত হবে।


বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি চাকরির কোটা বিষয়টির সমাধান করলেই বিপুল সংকট শিক্ষিত বেকার যুবকের জীবনের হতাশা দূর করা সম্ভব নয়। সেজন্য দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার রোধ করে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। বেকার যুবকরা চায় তাদের মেধা ও শ্রম যেন দেশের জন্য কাজে লাগাতে পারে। দেশে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের অভাবে তরুণরা প্রতিনিয়ত দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি নতুন প্রজন্মকে আবারো উজ্জীবিত করার কর্তব্য পালনে যুব ইউনিয়ন ভূমিকা রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।


সম্পর্কিত খবর

;