নারী নিগ্রহ ও মোরাল পুলিশিং, মব জাস্টিস, সাইবার বুলিং বন্ধেের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশ : 21 Sep 2024
নারী নিগ্রহ ও মোরাল পুলিশিং, মব জাস্টিস, সাইবার বুলিং বন্ধেের দাবিতে  প্রতিবাদ সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার:  বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য ও সহিংসতা,  বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ, ধর্ষণ-গণধর্ষণ-নির্যাতন, মোরাল পুলিশিং, মব জাস্টিস, সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবিতে  প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয়  প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুষ্মিতা রায় সুপ্তির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শাহিনুর সুমি, নারী আন্দোলন কর্মী ফারজানা আহমেদ, নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদিয়া নোশিন তাসনিম প্রমুখ।


বক্তরা বলেন,“গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনে অন্যদের মত নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, এমনকি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা ছিল। দুঃখের বিষয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আজ তা অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে। যে নারীরা আন্দোলনকারীদের পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছে, আজ তারাই রাস্তাঘাটে নিরাপদ নয়। সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় গণঅভ্যুত্থানের নারী সমন্বয়কদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তাদের নামে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


সাধারণ নারীদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার সি-বিচসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদেরকে হেনস্তা করা হয়েছে। নানা আপত্তিকর মন্তব্য, শারীরিক নির্যাতন, ভিডিও ধারণ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদেরকে অপমানিত করা হচ্ছে। তাছাড়াও হিজড়া, যৌনকর্মীদের অপদস্ত করা হচ্ছে, প্রকাশ্যে তাদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তিত করছে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে, অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন করেছি। নতুন এই বাংলাদেশে আমরা নারীদের প্রতি বৈষম্য, তাদের উপর নির্যাতন দেখতে চাইনি। অবিলম্বে এ সকল বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি দাবি জানাই। একইসাথে আমরা মনে করি যে, নারীর উপর বৈষম্য-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য নারীদের একতাবদ্ধ হওয়া ভিন্ন কোন রাস্তা নেই। নারীদের একতাবদ্ধ হয়ে তাদের উপর সংঘটিত সকল বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। লড়াই করেই তাদের দাবি আদায় করতে হবে। নারীমুক্তি কেন্দ্র এই লক্ষ্যে এদেশের নারীদের নিয়ে লড়বে।”


সম্পর্কিত খবর

;