নড়াইলে ধর্ষণ করে ইউপি সদস্যে ও রাজৈরে শিশু হত্যার বিচার দাবি

প্রকাশ : 28 Dec 2024
নড়াইলে ধর্ষণ করে ইউপি সদস্যে  ও রাজৈরে শিশু হত্যার বিচার দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট:  সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. দিলরুবা নূরী আজ এক যৌথ বিবৃতিতে নড়াইলে ধর্ষণ করে ইউপি সদস্যের মুখে বিষ ঢেলে হত্যা ও মাদারীপুরের রাজৈরে শিশু তিশা আক্তার হত্যার ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নড়াইল সদরে বাসনা মল্লিক নামের একজন ইউপি সদস্য কাজ শেষে স্থানীয় যুবক রাজিবুলের ফোন কল পেয়ে তার কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে যান। সেখানে তাকে ৪ জন মিলে ধর্ষণ কওে এবং ভিডিও ধারণ করে তার কছেই ২ লাখ টাকা দাবি করে। তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। বাড়িতে ফিরে ভয়ে কিছু না বললে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ছেলেকে সব ঘটনা জানান।

অন্যদিকে তিশা সেখানকার নয়াকান্দি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বিকেলের দিকে তাকে ঘরে রেখে ছোট বোনকে নিয়ে তার মা রাস্তায় যায় রোদ পোহানোর জন্য। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তিশাকে মুখ বাধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। রাজৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিশার মায়ের বক্তব্য হলো, তিশাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ বাসনা মল্লিক একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। পাওনা টাকা ফেরতের জের ধরে তাকে ধর্ষণ করে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা প্রমাণ করে নারী সম্পর্কিত দুষ্টিভঙ্গী কতটা ভয়াবহ আমাদের সমাজে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও তাকে ভয়ে চুপ থাকতে হয়েছে, তাহলে সমাজের সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা কত কঠিন তা সহজেই অনুমানযোগ্য। তিশা ১১ বছরের একটি শিশু। সেই শিশুটিও তার ঘরে নিরাপদ নয়। মা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগে কে বা কারা ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে চলে গেল!

কি এক ভয়াবহ সমাজে বাস করছি আমরা! দেশে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাম্যের ¯েøাগান দিয়ে গণঅভ্যুত্থান হল কিন্তু সমাজে নারীর সাম্য কোথায়? নারী শিশুর নিরাপত্তা কোথায়? কোথায় তার সামাজিক মর্যাদা?’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এমন অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে অথচ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যত অকার্যকর ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্র নানা রকম সংস্কারের কথা বলে চলেছে কিন্তু সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবনের কোন পরিবর্তনের উদ্যোগ নাই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নাগরিকের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার রেওয়াজ এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে এমন এক মনন কাঠামো যা সকল পর্যায়ের নারীকে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করেছে। এজন্য নারী/শিশু নির্যাতন হত্যা ধর্ষণের বিচার করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রæত হওয়া খুব জরুরী।’

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সম্পর্কিত খবর

;