ডেস্ক রিপোর্ট: বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ যে সব কারণে ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম ফিফা ফরোয়ার্ড ফান্ডের অর্থের অপব্যবহার।
নিয়মানুযায়ী ফরোয়ার্ড ফান্ডের অর্থ খরচের নির্দিষ্ট কিছু খাত আছে। এই অর্থ নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখাটা ফিফার নিয়মে বাধ্যতামূলক। লেনদেনও শুধু সেখান থেকেই করার নিয়ম। ফিফার তদন্তে এখানেই বড় দাগে তিনটি অনিয়ম দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে ফিফার তহবিলের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নগদে উত্তোলন করা, ফিফা সম্পর্কিত প্রকল্প বা প্রোগ্রামে অন্য অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার এবং ফিফা তহবিলের টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা।
ফিফা নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির ইনভেস্টিগেটরি চেম্বার বেশ কিছু লেনদেন বিশ্লেষণ করে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪ মার্কিন ডলার লেনদেনে আর্থিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি। এটি যাচাইকৃত লেনদেনের ১৭.৭৩ শতাংশ। এটিকে কোনোভাবেই তুচ্ছ বিবেচনা করা যায় না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ফিফা ফান্ডের মাত্র ১২.৬৯ শতাংশ সঠিকভাবে লেনদেন করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কী পেয়েছে ফিফা
ফিফার ইনভেস্টিগেটরি চেম্বার ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় পর্যালোচনা এবং নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বিডিও কর্তৃক ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরীক্ষা বিশ্লেষণ করেছে। এর মাধ্যমে ফরোয়ার্ড নীতিমালা প্রতিপালনে বাফুফে ক্রমাগত ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে ফিফার প্রতিবেদনে।
ফিফা ফরোয়ার্ড ফান্ডের অর্থ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন (এ ক্ষেত্রে বাফুফে) যথাযথভাবে খরচ করছে কিনা, এ নিয়ে প্রতি বছর কেন্দ্রীয় পর্যালোচনা করে ফিফা।
ইনভেস্টিগেটরি চেম্বারের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, ফান্ডের খরচের আওতায় থাকা খাতে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বদলে বাফুফের পরিচালন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা হয়েছে। যেমন ২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই বছর ফিফা ফরোয়ার্ড ফান্ডে ৭ লাখ ৮ হাজার ৮২০ ডলার পেয়েছিল বাফুফে। এর মধ্যে মাত্র ৯০ হাজার ১৪ ডলার ফিফা নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা হয়। যা প্রদেয় অর্থের মাত্র ১২.৬৯ শতাংশ।
এ ক্ষেত্রে কিছু উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন:
• নারী ফুটবলে ভ্রমণ ও বেতন বাবদ ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৪ ডলার খরচের কোনো সহায়ক কাগজপত্র দেখানো হয়নি।
• জাতীয় দলের কোচ ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে ৪৪ হাজার ১০০ ডলার বেতন দেওয়া হয়েছে নগদে। আবার বাফুফের ব্যাংক রেকর্ডে দেখা যায়, এই বেতন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। যাতে মনে হতে পারে, এই বেতন দুইবার দেওয়া হয়েছে।
• ২০১৪ ও ২০১৫ সালের প্রশাসনিক খরচ বাবদ ৩৫ হাজার ৫৭৩ ডলার খরচের কথা ২০১৬ সালেও উল্লেখ করা হয়। এখানেও দুইবার পরিশোধের ব্যাপার থাকতে পারে।
• বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলোকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৫ ডলার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। যেটা ফিফা ফরোয়ার্ড নীতিমালার অংশ নয়, ফিফার সঙ্গে সম্মতিক্রমেও হয়নি। তার ওপর, এই অর্থ বিতরণের পক্ষে যথাযথ প্রমাণও নেই, যার মধ্যে ৫৩ হাজার ৫৮৮ ডলার দেওয়া হয় নগদে।
এ সবের প্রেক্ষিতে ফিফার অডিট এন্ড কমপ্লায়েন্স কমিটি বাফুফেকে দেওয়া ফান্ড স্থগিত করে এবং ২০১৭ সালে একটি কর্ম-পরিকল্পনা ঠিক করে দেয়। কর্ম-পরিকল্পনা অনুসারে বাফুফেকে নগদ পরিশোধ ন্যুনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। নগদ যা হবে, সেটিও যেন ফিফার সম্মতি সাপেক্ষে হয়।
কিন্তু ইনভেস্টিগেটরি চেম্বারের তদন্তে দেখা যায়, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় পর্যালোচনায়ও নগদ ব্যবহারের একই চিত্র উঠে এসেছিল। যার জেরে ফিফার অডিট এন্ড কমপ্লায়েন্স কমিটি ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে অর্থ ছাড়ে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৯ সালের পর্যালোচনায় পরিস্থিতির কিচুটা উন্নতি ঘটে। নিষেধাজ্ঞাও আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়। তবে ইনভেস্টিগেটরি চেম্বার দেখতে পায়, ফিফা ফান্ডে নগদ পরিশোধের ঘটনা আবারও ঘটেছে।
ফিফার নিয়োগ করা নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বিডিওর ২০১৭-২০২০ নিরীক্ষায় দেখা যায়, ফিফা ফরোয়ার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ ফিফা সম্পর্কিত খাতে ব্যয় করার কথা থাকলেও সেটি অনুসরণ করা হয়নি। ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন খাতের জন্য নগদ টাকা তোলা হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে নগদ টাকা তোলা হয়েছে সেই ব্যাখ্যা বা প্রমাণপত্র বাফুফের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। বাফুফে নগদ খরচের যে হিসাব দিয়েছে, তার সঙ্গে তুলে নেওয়া নগদ অর্থের বড় অসঙ্গতিও পেয়েছে ফিফা। যার পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬৫ ডলার।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বলেছে, নগদ অর্থ উত্তোলনের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার পুর্ববর্তী লেনদেন শনাক্ত করা অর্থপ্রদানের প্রমাণ পাওয়াটা কঠিন করে তুলেছে। এর মাধ্যমে তহবিল অপব্যবহার, প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার এবং প্রোগ্রামের বাইরের বিষয়ে খরচের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ফিফার প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে আবু নাঈম সোহাগের ব্যাখাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে সোহাগ বলেছেন, ‘অনেক সময় স্পন্সরদের কাছ থেকে সময় মতো টাকা পাওয়া যায় না। কিন্তু বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও অনুষ্ঠান সময়মতোই আয়োজন করতে হয়। এ ধরনের ঘটনায় বাফুফের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে ফিফা ফান্ড থেকে অর্থ নিয়েছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেও আমরা স্পন্সরদের টাকা পাইনি। তখন আমাদের ব্যাংক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে ধার নিতে হয়েছে। এসব টাকা আমরা বাফুফের অন্য অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছি। ওই সব অ্যাকাউন্ট থেকে ফিফা অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে খরচ করা হয়। আমরা ফিফা অ্যাকাউন্ট থেকে টানা নিয়েছি শুধু ধার বাবদ।’
প্রথমআলো
ডেস্ক রিপোর্ট: ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আজ বড় এক দিন। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী দুই দল ভারত ও নিউজিল্যান্ড।টুর্নামেন্ট জুড়ে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: খেলা যেন নয়, রীতিমতো যুদ্ধ। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল। রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট ...
ডেস্ক রিপোর্ট: ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ঘোষিত ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত বিমানে সৌদি আরব ছেড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও ড্রোন হামলার খবরে অঞ্চল ...
সব মন্তব্য
No Comments