স্টাফ রিপোর্টার: নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪ তম জন্ম এবং ৯২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর, নারী শাখার আলোচনা সভা আজ রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর নারী শাখার সদস্য কমরেড লাভলী হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি ঢাকা মহানগর (উত্তর) এর সভাপতি কমরেড ডা সাজেদুল হক রুবেল, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড লাকী আক্তার। সভার শুরুতে উদীচীর শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিবেশন করেন। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনী পাঠ করেন সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর নারী শাখার সদস্য কমরেড লাভলী হক।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড লূনা নূর বলেন, ‘রোকেয়া যে সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে সময় সমাজ ব্যবস্থা অশিক্ষার অভিশাপ ও পুরুষতন্ত্রের অবরোধ প্রথার মধ্যে ডুবে ছিল। সে সময় মেয়েদের লেখাপড়া ছিল সামাজিকভাবে কার্যত নিষিদ্ধ। নারীদের জীবনে অবরোধ প্রথার যন্ত্রণা ও গ্লানি তিনি অনুভব করেছিলেন নিজের জীবনে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে ও ২৯ বছর বয়সে বিধবা হয়ে তিনি বুঝেছিলেন সমাজে নারীর অবস্থা কতটা নিগৃহীত। এ অবস্থা থেকে নারীর মুক্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে নারী শিক্ষার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল সার্বিকভাবে সমাজের অগ্রগতি। কারণ তিনি বুঝেছিলেন অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে ফেলে রেখে সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তার সেই লড়াই আজও আমাদের প্রেরণা যোগায়। রোকেয়ার মৃত্যুর ৫ দশক পরেও বাংলাদেশে নারীর প্রতি রয়েছে সীমাহীন বৈষম্য। পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিনিয়ত সেই বৈষম্যমূলক আচরণ নারীদের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করছে।’
কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, রোকেয়া ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি যে মশাল জালিয়ে গেছেন, তার প্রদীপ শিখা এখনও জ্বলছে। তবে এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্বসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য বিরাজমান। নারীর গৃহস্থালি কাজ ছাড়া পরিবার চলে না কিন্তু গৃহস্থালি কাজের কোন স্বীকৃতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নাই। সমকাজে সমমজুরী আইনে থাকলেও বাস্তবে প্রায় সমস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী পুরুষের তুলনায় কম মজুরী পেয়ে থাকেন। শ্রমজীবি নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত মজুরী, সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় ন্যুনতম আয়োজন নেই। নারীর সস্তা শ্রমকে ব্যবহার করে মুনাফা করতে মালিক শ্রেণি যত আগ্রহী, তাদের কাছে ততটাই উপেক্ষিত নারীর অধিকার।’
সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য লাকী আক্তার বলেন, ‘নারী জাগরণে রোকেয়া সব সময় প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবেন। ইতিহাসের কালপর্বে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান জাতি যুগ যুগ ধরে স্মরণে রাখবে। সকল গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নারীরা পালন করেছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। কিন্তু নারীদের অবদান এখনই সামাজিকভাবে, র্ষ্ট্রাীয়ভাবে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে নারীকে স্বাধীন হতে হবে। নারী মুক্তির লড়াইকে এগিয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে রোকেয়া আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবেন। নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়ার দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের উদ্যোগ খুবই অপ্রতুল’।
স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও ...
ডেস্ক রিপোর্ট: ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাত ...
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিজ নির্বাচনী এলাকা, পল্লবী ও রুপনগরে, গুম ও শহীদ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের হাতে রমজান ও ঈদের সামগ্রী তুলে দ ...
সব মন্তব্য
No Comments